ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি রেনাটা পিএলসি যুক্তরাজ্যের বাজারে হাইড্রোকর্টিসন ৫ মিলিগ্রামের নতুন ট্যাবলেট বাজারজাত করেছে। এটি অ্যাড্রেনোকর্টিক্যাল অপ্রতুলতায় ভুগছে এমন রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় কর্টিকোস্টেরয়েড হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে গতকাল এ তথ্য জানা গেছে।
তথ্যানুসারে ৫ মিলিগ্রামের এ ট্যাবলেট চিকিৎসকদের ডোজ ঠিক করতে আরো বেশি সুবিধা দেবে। এতে রোগীর শরীরে স্বাভাবিক কর্টিসল মাত্রা বজায় রাখা সহজ হবে এবং চিকিৎসা আরো সঠিকভাবে করা সম্ভব হবে। ওষুধটি মিরপুরে রেনাটার ইউকে এমএইচআরএ-অনুমোদিত এবং ইইউ জিএমপি-প্রত্যয়িত বিশেষ কারখানায় তৈরি হয়েছে। এটি রেনাটা (ইউকে) লিমিটেডের অধীনে বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে যুক্তরাজ্যের বাজারে ৫ মিলিগ্রাম হাইড্রোকর্টিসন ট্যাবলেট সরবরাহকারী সীমিতসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রেনাটা অন্যতম। এটি উচ্চমানের এন্ডোক্রাইন চিকিৎসায় অ্যাকসেস বাড়াতে এবং বিশ্বব্যাপী নিয়ন্ত্রিত বাজারে রেনাটার অবস্থান আরো শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে চলতি ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রেনাটার শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৬ টাকা ৪৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ১৯ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩১২ টাকা ১ পয়সায়।
সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ৫৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আলোচ্য হিসাব বছরে রেনাটার ইপিএস হয়েছে ১৯ টাকা ৩৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩১ টাকা ৫৩ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩০৫ টাকা ৪৯ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৯২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে রেনাটার পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩১ টাকা ৫৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২০ টাকা ৪০ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৯৫ টাকা ৫৬ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে রেনাটার ইপিএস হয়েছে ২০ টাকা ৪০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪৪ টাকা ৫৬ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৬৬ টাকা ৮৭ পয়সায়।
রেনাটার সর্বশেষ সার্ভিল্যান্স রেটিং দীর্ঘমেয়াদে ‘ট্রিপল এ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি ওয়ান’। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং ৭ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে আলফা ক্রেডিট রেটিং পিএলসি (আলফা রেটিং)।
১৯৭৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রেনাটা পিএলসি ১৯৭২ সালে মার্কিন ওষুধ জায়ান্ট ফাইজারের একটি কোম্পানি হিসেবে বাংলাদেশে যাত্রা করে। ১৯৯৩ সালে ফাইজার স্থানীয় শেয়ারহোল্ডারদের কাছে তাদের মালিকানা বিক্রি করে চলে যায় এবং কোম্পানির নাম ফাইজার (বাংলাদেশ) লিমিটেডের বদলে হয় রেনাটা লিমিটেড। বর্তমান নাম রেনাটা পিএলসি। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ২৮৫ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১১৪ কোটি ৬৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৩ হাজার ২৭২ কোটি ১৪ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১১ কোটি ৪৬ লাখ ৯৬ হাজার ৪৯০। এর ৫১ দশমিক ২৯ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২১ দশমিক ৯৭, বিদেশী বিনিয়োগকারী ১৮ দশমিক ৮৫ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।